কবিতার সন্ধ্যারা

তোমার চোখে যেদিন কাজল পরা দেখি, মনে হয়, "চোখে যেন তার, শতাব্দীর নীল অন্ধকার" !
হয়তোবা কাজল পরোনা তুমি, পাহাড়ী মেয়ে ৷ হয়তো মাশঁকারা, কিংবা হয়তো তোমায় কোনো সন্ধ্যায় ধীর পায়ে হাটতে দেখে আমার বুকের ভেতর বাজছে দামামা ৷ হয়তো তুমি হেটে চলো তোমার ধীর পায়ে শতাব্দীর প্রাচীনতম অরণ্য ভেদ করে ৷ তোমার পায়ে পাহাড় ভেদ হয়ে যায়, জঙ্গলের পাথুরে মাটি চিরে ফুরে বেরিয়ে আসে সবুজ কাচের মত তীক্ষ্ম আকাশভেদী চিরহরিৎ ৷ চিরহরিৎের বন, বনের বিশাল প্রান্তরে হেটে বেরিয়েছি আমি, তোমাকে খুজতে বেরিয়েছিলাম বলে নয়, নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম ৷ হয়তো লিখা হতোনা তোমাকে খুজে পেলে ৷ তাই ভাবিনা ৷ তোমার চোখের উপর, কপাল থেকে নেমে আসা চুলের গোছায় ঢেকে যায় আমার সমাধির কাফন ৷ গাঢ় অন্ধকারে আমি হাতরে হাতরে পথ খুজি এই দূষিত নগরে, তোমার চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসা দীপ্তি ঠিকই ধরতে পেরেছি আমি ৷ ঠিকই বুঝতে পেরেছি, তুমি ৷ তোমাকে চিনবো হয়তো হাজারো মূমুর্ষের ভীরে ৷
তোমার কথা ভেবে সহস্র্য বছর আগে লিখে গিয়েছিলো যারা, তারা আমার কথা বোধহয় জানতে পারেনি ৷ দিল্লীর পুরোনো মাটিতে আমি যেমন খুজে বেরাচ্ছি গালিবের কবর, তেমনি (আমার) কবিতায় খুজি তোমাকে ৷ দিল্লীর ধূলোভরা আকাশে মেঘ নেই, নেই কোনো জীবনের আশ্বাস ৷ তবু চেরোনবিল শহরের ভেঙে পরা বাড়িগুলোর মতন কোন এক পরিত্যক্ত ভাঙা বাড়িতে কবিতা লিখে চলি আমি ৷ আমার ঘর নেই ৷ তাই, ধুলো পরা কবিতার প্রতিটা পৃষ্ঠায় খুজে ফিরি তোমাকে ৷ তোমাকে পেলে হয়তো আমার ঘর হতো, হয়তো আমার কবিতা হত ৷ হয়তো আমার সন্ধ্যার বিষন্নতা গ্রাস করতোনা ৷ তোমাকে খুজে পেলে হয়তো অন্ধকারে পথ দেখতে পেতাম ৷ তুমিও কবিতা লেখো জানি, তুমি কেন কবিতা লেখ? কি খুজে ফেরো তুমি? তোমার কবিতায় কে থাকে? অহম থেকে আমার বাঙলা, আমি, আমি তোমার খোজে বেরিয়েছি ৷ তোমাকে খুজে পেলে হয়তো কবিতার দরকার ফুরোতো ৷ বাবেলের মরুভুমি আর তোমার পাহাড়ের জন্মভূমি কিংবা আমার সুন্দরশ্রেষ্ঠ কবর তোমার কবিতায় জুড়ে দিতে পারতাম যদি?! সংযোগ খুজে ফিরি, কোথায় যেন সেই আদীম কোন এক গুহায় সর্বশেষ আমাদের দেখা হয়েছিল ৷ সেখান থেকে আমি আর তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম, সেই তখন হতে পথ পারাপার দূর্গম হতে হতে ভূখন্ড আর যেদিন এক থাকলোনা ৷ সীমান্ত কিংবা প্যান্জিয়ার মতন আলাদা হয়ে গেলো সেদিন হতে চিৎকার করে উঠতে থাকলো আমার কবিতারা ৷ বনের নিশব্দ মাতম আমরা শুনতে পাইনা লোকালয়ে, যেমন করে নিশব্দে বয়ে যায় বরফঢাকা নদী ৷ ভলগা কিংবা পদ্মা ৷ কিংবা পাহাড়ের কোনো দূরন্ত নদী তোমার খবর বয়ে আনে সভ্যতার সেই পুরোনো বনভূমি থেকে ৷ তুমি আমি এক হলে হয়তো কোনদিন কবিতারা ফুরিয়ে যাবে ৷ কবিতারা ফুরিয়ে যাক, খাক হয়ে পুরে যাক আমার ধুলার আস্তর পরা পৃষ্ঠাগুলো ৷ দিল্লীতে আমি কবিতার খোজে আসিনি, ঘর খুজতে আসিনি ৷ নিজেকে হারাবার তারণায় এসেছিলাম ৷ যেন নিজেকে নিজে খুজে না পাই ৷ কিন্তু পৃথিবীর শুরু থেকে পালিয়ে চলেছি নিজের থেকে নিজে, কিন্তু হারাতে পারিনি কখনোই ৷ খুজে খুজে যেন ঠিক খুজে চলে আসে আমার কাছে ৷ যেন পঞ্চবিংশতির বেতাল ৷ যেন মরনভূত ছাড়বেনা আমাকে ৷ যদি নিজেকে ভূলতে না পারি, তোমাকে মনে রাখবো কিভাবে? তোমার হয়তো সময় ঘনিয়ে আসছে, চলে যাওয়ার ৷ কিংবা হয়তো আমারও! 
তোমাকে খুজতে বেরোবো হয়তো আবারও, কিংবা পথ ভূল করে হারিয়ে ফেলি যেন নিজেকে ৷ একটা বিপন্ন বিস্ময়ের অপেক্ষায় তুমি, আমি, কবিতারা! 


ডিসেম্বর ১' ২৩
দিল্লী এবং অন্ধকার সন্ধ্যা!

Photo by - @muhammedsalah_

Comments

Popular posts from this blog

From Silence to Somewhere

Pact with the Devil

আর কিছু দূর গেলে তোমার বাড়ী!